শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফের বাহারছড়া এলাকা থেকে অপহৃত অপর ৯ জনের কোন হদিস মিলেনি দুইদিনে। তাদের উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহরণের একদিন পর বসকর্মি সহ ১৮ জন উদ্ধারের ঘটনায় বনবিভাগের পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে অস্ত্রের মুখে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে আটজনকে অপহরণ করা হয়। এছাড়া সোমবার রাতে নিজ দোকান থেকে অপহরণ করা হয়েছে জসিম উদ্দিন নামে একজন দোকানিকে।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত অপহৃতদের কোনো ধরনের হদিস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন টেকনাফের শামলাপুরে অটোরিকশা পরিবহনের লাইনম্যান মো. আবদুর রহিম ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক শোভন কুমার সাহা।
পুলিশ পরিদর্শক শোভন কুমার সাহা বলেন, অপহৃতদের উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে পাহাড়ে অভিযানে রয়েছি।
অটোরিকশা পরিবহনের লাইনম্যান মো. আবদুর রহিম বলেন, মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে হোয়াইক্যং-বাহারছড়ার শামলাপুর সড়কে অস্ত্রের মুখে দুটি অটোরিকশা থামায় অপহরণকারীরা। এরপর দুটি অটোরিকশার চালকসহ আটজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। খবর পেয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। অপহৃতদের নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিনকে অপহরণ করা হয়েছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ১৫-২০টি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে দক্ষিণ বড় ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তার মাথা এলাকায় অবস্থিত নিজ দোকান থেকে জসিম উদ্দিনকে অপহরণ করে। তাঁকে গহিন পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পর থেকে তার কোনো ধরনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না এবং কোনো ধরনের মুক্তিপণ দাবি করে ফোনও করা হয়নি। এতে করে তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
এর আগে সোমবার সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া পাহাড়ে বনবিভাগের জমিতে গাছের চারা রোপন করতে গিয়ে বনকর্মি সহ ১৮ জনকে অপহরণ করা হয়। রাতে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারিরা ভুক্তভোগি পরিবারগুলোকে ফোন করা হলেও মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ, র্যাব, এপিবিএনের অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে আটক করা হয়েছে অপহরণ চক্রের দুই সদস্যকে।
এব্যাপারে বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ নিজেই।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ তথ্য বলছে, এক বছরের বেশি সময়ে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮১ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
.coxsbazartimes.com
Leave a Reply